নিজস্ব প্রতিবেদক।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরবি হরফে কালিমা লেখা সাদা পতাকা টাঙানো নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কারা এসব পতাকা টাঙিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর এসব সাদা পতাকা লাগানো হয়েছে। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড, ইকবাল রোড ও খিলজি রোডে সবচেয়ে বেশি পতাকা চোখে পড়ে। এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, কখন বা কারা এগুলো টাঙিয়েছে সে বিষয়ে তারা অবগত নন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর বাইরে সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, পাবনা, যশোরসহ আরও কয়েকটি জেলাতেও একই ধরনের পতাকা দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট এলাকায় স্থানীয়দের দাবি, কয়েকজন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী রাতে এসে এসব পতাকা টাঙিয়ে যায়। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব পতাকা লাগিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, তাদের সংগঠন এসব পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে কালিমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের বিরোধিতা করারও কোনো কারণ তিনি দেখেন না।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকতে পারে। তিনি বলেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা না গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পতাকা টাঙানোর পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।