নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা বনবিটের সংরক্ষিত বনভূমি থেকে ৩০টি আকাশমণি গাছ কাটার ঘটনায় প্রায় ৭০ খণ্ড কাঠ জব্দ করেছে বন বিভাগ। তবে গাছ কাটার পর জব্দ করা কাঠের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর চন্দ্রা বনবিটের সিনাবহ পশ্চিমপাড়া এলাকার বংশীপাড়া মাঠের দক্ষিণ পাশে সংরক্ষিত বনভূমির একটি প্লট থেকে আকাশমণি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছের কাঠ জব্দ করেন। পরে বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জব্দ করা কাঠের হিসাব নেওয়ার কথা জানানো হয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর কাঠ ব্যবসায়ী বাবু মোল্লার নামও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি আকাশমণি উডলট বাগানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এবং চন্দ্রা বনবিটের বনপ্রহরী লুৎফরের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি কাঠ ব্যবসায়ীকে পাওয়া গেলেও তাকে আটক করা হয়নি। এমনকি কাটা কাঠ জব্দ করার পরও তাৎক্ষণিকভাবে বনবিট কার্যালয়ে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে জব্দ করা কাঠের নিরাপত্তা ও যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে কাঠ জব্দ করা হয়েছে। পরিবহনের গাড়ি না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাঠ অফিসে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কাঠগুলো অফিসে নেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়।
এ ঘটনায় বর্তমান কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌসিফ জুবায়েরের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংরক্ষিত বনভূমি থেকে গাছ কাটার পুরো ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং জব্দ করা কাঠের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করা।
কারণ সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা শুধু গাছ কাটা বন্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বনভূমি থেকে গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে গাছ কাটা হলো, কাটা কাঠ কোথায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্মীরা সময়মতো কী ব্যবস্থা নিয়েছেন—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ৩০টি গাছ কাটার মতো ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিষয়টি আগে থেকে জানতে পেরেছিলেন কি না। একই সঙ্গে জব্দ করা ৭০ খণ্ড কাঠ বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং সেগুলোর যথাযথ হিসাব রাখা হয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
তাই স্থানীয়দের দাবি, শুধু কাঠ জব্দ করেই যেন বিষয়টি শেষ না হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, কাঠের মালিকানা, গাছ কাটার অনুমতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্মীদের ভূমিকা—সবকিছু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে।