গাজীপুরে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ এবং বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ৩৫ জন নারীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়েছে।
রোববার জেলা প্রশাসনের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং জাতীয় মহিলা সংস্থা, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন।
অনুষ্ঠানে সেলাই ও এমব্রয়ডারি, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং অফিস অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করা ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে কোর্স সমাপনী সনদ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নারীদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে মোট ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী মৌ সাহা জানান, একটি পুরোনো সেলাই মেশিন দিয়ে তার যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তিনি নিজের পরিবার পরিচালনার পাশাপাশি আরও তিনজন নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। অপর প্রশিক্ষণার্থী পাপিয়া সুলতানা বলেন, প্রশিক্ষণের আগে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যায় অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন তিনি নিজেই দক্ষতার সঙ্গে নিজের ডিজিটাল ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব। তাই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে নারীদের আরও এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একসময় নারীদের সক্ষমতা নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা থাকলেও এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নারীরা সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি জেলায় নারী জেলা প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন, যা নারীর ক্ষমতায়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
জাতীয় মহিলা সংস্থা জানায়, বিতরণকৃত ক্ষুদ্রঋণের অর্থ ছাগল ও গরু পালন, সবজি চাষ, দর্জি বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করা হবে। ঋণের অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পাঠানো হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।